দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) কয়লা খনির উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আরও ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর অধিগ্রহণ এলাকার বাঁশপুকুর, হামিদপুর ও চৌহাটি মৌজার ভূমিহীন, স্বল্প জমির মালিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাস করে আসছেন তারা। কৃষিজমি ও বসতভিটাই অনেক পরিবারের জীবিকা ও জীবনযাপনের প্রধান অবলম্বন। ফলে জমি অধিগ্রহণ করা হলে অনেকে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে সংকটে পড়তে পারেন। বিশেষ করে স্বল্প জমির মালিক ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে সরকারি অফিস-আদালতে বারবার ঘুরতে হতে পারে। পাশাপাশি দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তারা। এ কারণে জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘জমি দেব, টাকা নেব—নগদে।’ অর্থাৎ জমি অধিগ্রহণে তাদের আপত্তি না থাকলেও ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত হাতে পাওয়ার নিশ্চয়তা চান তারা। একই সঙ্গে স্বল্প জমির মালিক ও ভূমিহীনদের বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা জমি দিতে রাজি আছি। কিন্তু জমির ন্যায্য মূল্য ও ক্ষতিপূরণের টাকা যেন দ্রুত হাতে পাই। অফিসে অফিসে ঘুরে কিংবা দালালের মাধ্যমে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়।”
আরেকজন স্বল্প জমির মালিক বলেন, “আমাদের অনেকের জমি খুব কম। আবার কেউ কেউ ভূমিহীন। জমি চলে গেলে আমরা কোথায় যাব, কীভাবে জীবন চালাব—এ বিষয়টি সরকারকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।”
এদিকে, জমি অধিগ্রহণের সরকারি সিদ্ধান্তের পর ওই তিন মৌজায় ক্ষতিপূরণের আশায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খনির কিছু সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীও এ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অধিগ্রহণের পর যারা জমি ও বসতভিটা হারাবেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, “জমি অধিগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধিগ্রহণ এলাকায় সার্ভে টিম পাঠানো হবে। যাচাই-বাছাই শেষে অধিগ্রহণের অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সব মিলিয়ে, ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তে তিন মৌজার মানুষের মধ্যে একদিকে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য মূল্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে জমি ও বসতভিটা হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ভূমিহীন ও স্বল্প জমির মালিকরা। দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেএম